ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে পূর্ব বিরোধ ও এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের গুলিতে শিপন মিয়া (২৮) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। এই ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন —হোটেলের কর্মচারী মো. ইয়াছিন (২০), মো. নূর আলম (১৮), ও মো. এমরান মাস্টার (৪২)। নিহত শিপন মিয়া ছিলেন বড়িকান্দি ইউনিয়নের নূরজাহানপুর গ্রামের মনেক মিয়ার ছেলে।
শনিবার (১ নভেম্বর) সন্ধ্যার দিকে উপজেলার বড়িকান্দি ইউনিয়নের গণি শাহ মাজারের পাশে একটি হোটেলে এই ভয়াবহ ঘটনাটি ঘটে। স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রমতে, দীর্ঘদিন ধরে নূরজাহানপুর গ্রামের শিপনের সঙ্গে থোল্লাকান্দি গ্রামের রিফাত বাহিনীর বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিরোধ চলছিল।
সন্ধ্যাবেলা শিপন বড়িকান্দি গণি শাহ মাজার সংলগ্ন একটি রেস্তোরাঁয় খাবার খেতে গেলে প্রতিপক্ষ রিফাত তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। এতে শিপন এবং হোটেলের কর্মচারীসহ মোট চারজন গুলিবিদ্ধ হন।
প্রত্যক্ষদর্শী শাহ আলম মিয়া জানান, সকালে দু’পক্ষের মধ্যে কথাকাটাকাটির পরই সন্ধ্যার দিকে হঠাৎ গুলির শব্দ শোনা যায়। মুহূর্তের মধ্যেই চারজন মাটিতে লুটিয়ে পড়েন, যার ফলে এলাকাজুড়ে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
গুরুতর আহত চারজনকে দ্রুত উদ্ধার করে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় প্রেরণ করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিপন মারা যান। আহত বাকিদের অবস্থাও আশঙ্কাজনক।
নবীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহিনুর ইসলাম গুলিবর্ষণের খবর নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, দ্রুত ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয় এবং বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। ওসি প্রাথমিকভাবে ধারণা করছেন, এই ঘটনা এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করেই ঘটেছে। ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং অভিযুক্ত রিফাতকে গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশি অভিযান চলছে।








