সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার ভোলাগঞ্জ সাদাপাথর পর্যটন এলাকা থেকে পাথর লুট করার অভিযোগে জড়িতদের একটি বিস্তৃত তালিকা প্রকাশ করেছে প্রশাসন। দুর্নীতি দমন কমিশনের একটি অভিযানের প্রেক্ষিতে গঠিত তদন্ত কমিটি বৃহস্পতিবার (২১ আগস্ট) এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই তালিকা প্রকাশ করে।
তদন্ত কমিটির বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, স্থানীয় প্রশাসনের কিছু অসাধু ব্যক্তির সাথে যোগসাজশে রাষ্ট্রীয় এই সম্পদ লুট হওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত ১৩ আগস্ট দুদক এই এলাকায় অভিযান চালায়। সেই অভিযানে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতেই এই তালিকা তৈরি করা হয়েছে।
তালিকায় সরকারি বিভিন্ন সংস্থার কর্মকর্তা, প্রশাসনিক কর্মকর্তা, পুলিশ, বিজিবি, ব্যবসায়ী এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীর নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের মধ্যে রয়েছেন খনিজ সম্পদ উন্নয়ন ব্যুরোর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক এবং কোম্পানীগঞ্জের উপজেলা নির্বাহী অফিসারসহ চার কর্মকর্তা, যাদের নাম আজিজুন্নাহার, মোহাম্মদ আবুল হাছনাত, উর্মি রায় ও আবিদা সুলতানা। তালিকায় পুলিশ সুপার, থানা অফিসার ইনচার্জ এবং বিজিবির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাও রয়েছেন।
রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের মধ্যে বিএনপির বিভিন্ন স্তরের নেতা-কর্মীরা উল্লেখযোগ্য স্থান দখল করেছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন সিলেট মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদী ও সাধারণ সম্পাদক ইমমাদ হোসেন চৌধুরী, কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি সাহাব উদ্দিন এবং পাথর ব্যবসায়ী হিসেবে চিহ্নিত হাজি কামাল ও লাল মিয়া। আরও রয়েছেন জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম ও জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ মকসুদ আহমদসহ পনেরো জন স্থানীয় ও জেলা পর্যায়ের নেতা।
জামায়াত ইসলামের নেতাদের মধ্যে রয়েছেন সিলেট মহানগর জামায়াতের আমির মো. ফকরুল ইসলাম ও সেক্রেটারি জয়নাল আবেদীন।
জাতীয় রাগরিক পার্টির (এনসিপি) থেকে তালিকায় রয়েছেন সিলেট জেলার প্রধান সমন্বয়কারী নাজিম উদ্দিন ও সিলেট মহানগরের প্রধান সমন্বয়কারী আবু সাদেক মোহাম্মদ খায়রুল ইসলাম চৌধুরী।
ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের কিছু নেতা-কর্মীর নামও তালিকায় রয়েছে। তাদের মধ্যে পাথর ব্যবসায়ী বিলাল মিয়া, শাহাবুদ্দিন ও গিয়াস উদ্দিন ছাড়াও কোম্পানীগঞ্জ আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আব্দুল ওদুদ আলফু এবং স্থানীয় কর্মী মনির মিয়া, হাবিল মিয়া ও সাইদুর রহমান উল্লেখযোগ্য।
অন্যান্যদের মধ্যে পূর্ব ইসলামপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আলমগীর আলম ও জামেয়া ইসলামিয়া হোসাইনিয়া মাদরাসার শিক্ষক মুকাররিম আহমেদসহ বেশ কয়েকজন ব্যবসায়ী ও স্থানীয় ব্যক্তির নাম রয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, অভিযুক্ত কয়েকজন সাংবাদিক ও অন্যান্য পেশার ব্যক্তিবর্গের তালিকা যাচাই-বাচাই করা হচ্ছে।








