ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার পাকশিমুল ইউনিয়নের ফতেপুর গ্রামে পূর্ব বিরোধের জেরে বুধবার (৫ নভেম্বর) ভোরে দুই পক্ষের গ্রামবাসী ভয়াবহ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এই সংঘাত একটানা প্রায় সাড়ে চার ঘণ্টা ধরে চলে, যার ফলে গোটা এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
গ্রামবাসীর এই দীর্ঘস্থায়ী মারামারিতে উভয় পক্ষের ৩০ থেকে ৪০ জন আহত হয়েছেন। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সংঘর্ষের সময় একাধিক বাড়িঘর ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনাও ঘটে। আহতদের দ্রুত চিকিৎসার জন্য সরাইল, ব্রাহ্মণবাড়িয়াসহ বিভিন্ন হাসপাতাল ও ক্লিনিকে পাঠানো হয়েছে।
এলাকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গ্রামবাসী এবং পাকশিমুল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. কাউছার হোসেনের নেতৃত্বে পার্শ্ববর্তী গ্রামের লোকজন একত্রিত হয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এগিয়ে আসেন। তাদের আপ্রাণ প্রচেষ্টায় অবশেষে সংঘাত থামে। বর্তমানে গ্রামে পরিস্থিতি শান্ত থাকলেও থমথমে উত্তেজনা বিরাজ করছে।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কিছুদিন আগে এই দুই পক্ষ আবারও সংঘর্ষের জন্য প্রস্তুত হলে অরুয়াইল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ টিপু সুলতান, পাকশিমুল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. কাউছার হোসেনসহ এলাকার নেতৃত্বস্থানীয় ব্যক্তিবর্গ মধ্যস্থতা করেন। তখন আগামী শনিবার (৮ নভেম্বর) ইউনিয়ন পরিষদে বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য বৈঠকের দিন ধার্য করা হয়েছিল। কিন্তু সেই নির্ধারিত দিনের আগেই বুধবার ভোরে এই সংঘাতের ঘটনা ঘটলো।
সরাইল থানার অফিসার্স ইনচার্জ (ওসি) মো. মোরশেদুল আলম চৌধুরী জানান, মঙ্গলবার (৪ নভেম্বর) রাত সাড়ে ১১টায় ফতেপুর গ্রামে উত্তেজনা শুরু হলে খবর পেয়ে তিনি সরাইল সার্কেলসহ সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে উভয় পক্ষকে শান্ত থাকার পরামর্শ দিয়েছিলেন। তিনি আরও নিশ্চিত করেন, বুধবার ভোর থেকে আবার সংঘর্ষ শুরু হওয়ার খবর তারা পেয়েছেন। এ বিষয়ে কেউ অভিযোগ দায়ের করলে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।








