অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন যে, শিক্ষার্থীদের কেবল ভালো পড়াশোনা করলেই হবে না, তাদের ছোটবেলা থেকেই সততা ও নৈতিকতার চর্চাও করতে হবে। তিনি বলেন, একটি উন্নত জাতি গঠনের জন্য শিক্ষা ও নৈতিকতা উভয়ই অপরিহার্য। শনিবার রাজধানীর ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরার (আইসিসিবি) রাজদর্শন হলে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সমিতির নতুন কার্যনির্বাহী কমিটির অভিষেক ও ছাত্রবৃত্তি বিতরণ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
ড. সালেহউদ্দিন ব্রাহ্মণবাড়িয়াকে ‘ঐতিহ্য ও সম্প্রীতির ভূমি’ হিসেবে উল্লেখ করেন এবং বলেন, শিক্ষায় বিনিয়োগ শুধু একজন শিক্ষার্থীকে সহায়তা করা নয়, বরং একটি জাতির ভবিষ্যৎ গঠন করা। তিনি আরও বলেন যে, ঢাকার প্রতিষ্ঠিত ব্রাহ্মণবাড়িয়াবাসীর ঐক্য ও প্রগতিশীল দৃষ্টিভঙ্গি তাকে গভীরভাবে অনুপ্রাণিত করেছে। তিনি জানান, এ ধরনের আয়োজন প্রমাণ করে যে ইতিবাচক পরিবর্তন সমাজের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র গোষ্ঠী থেকেই শুরু হয়।
ড. সালেহউদ্দিন বলেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া এখনো একটি অনুন্নত জেলা এবং এর উন্নয়নে জেলার প্রতিষ্ঠিত ব্যক্তিদেরকে এগিয়ে আসতে হবে। তিনি জেলা সমিতিগুলোকে ব্যক্তি-কেন্দ্রিক না হয়ে সম্মিলিত স্বার্থ রক্ষায় কাজ করার আহ্বান জানান এবং নিজেদের মধ্যে দ্বন্দ্ব বন্ধ করে সবাইকে সচেতন হতে বলেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে এম এ খালেক বলেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া দীর্ঘকাল ধরে দেশকে রাজনৈতিক নেতৃত্ব, শিক্ষাবিদ এবং শিল্পী উপহার দিয়ে আসছে। তিনি প্রতিজ্ঞা করেন যে, এখন থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়াকে তার মেধা ও অবদানের জন্য চেনা হবে, কোনো নেতিবাচক ধারণার জন্য নয়। এই বৃত্তি প্রদান ও কমিটির অভিষেক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তারা আগামী প্রজন্মের জন্য নাগরিক গর্বের বীজ বপন করছেন বলেও জানান তিনি।
সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী মো. খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল বলেন, এই সমাবেশ কেবল একটি উদযাপন নয়, বরং একটি নতুন আন্দোলনের সূচনা। এই আন্দোলনটি বাংলাদেশ ও বিশ্বজুড়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার একটি ইতিবাচক ভাবমূর্তি গড়ে তোলার জন্য কাজ করবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
অনুষ্ঠানে উচ্চশিক্ষায় ভালো ফল করা মোট ৩১২ জন শিক্ষার্থীকে বৃত্তি দেওয়া হয়। এর মধ্যে অনার্স স্তরে ২৫টি, এইচএসসি স্তরে ১৮২টি এবং এসএসসি স্তরে ১০৫টি বৃত্তি ছিল। এই উদ্যোগ তরুণ প্রজন্মকে শিক্ষায় আরও উৎসাহিত করবে বলে আশা করা হয়। অনুষ্ঠানের শেষভাগে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সমৃদ্ধ ঐতিহ্য নিয়ে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক পরিবেশনা অনুষ্ঠিত হয়, যা জেলার ঐক্য ও গৌরবকে আরও দৃঢ় করে।








