Home নাসিরনগর প্লাস্টিকের দাপটে নাসিরনগরে বিলুপ্তপ্রায় মৃৎশিল্প

প্লাস্টিকের দাপটে নাসিরনগরে বিলুপ্তপ্রায় মৃৎশিল্প

0
20

একসময়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলা মৃৎশিল্পের জন্য বেশ পরিচিত ছিল। এখানকার শ্রীঘর, বুড়িশ্বর, ভোলাউক, সিংহগ্রাম, আলাকপুর, ফান্দাউক ও হরিপুর গ্রামে মৃৎশিল্পীরা মাটি দিয়ে হাঁড়ি, পাতিল, খেলনা ও অন্যান্য তৈজসপত্র তৈরি করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। তবে আধুনিক প্লাস্টিক, মেলামাইন, অ্যালুমিনিয়াম ও স্টিলের পণ্যের দাপটে সেই ঐতিহ্যবাহী শিল্প এখন প্রায় বিলুপ্তির পথে।

​কালের বিবর্তনে নানা প্রতিকূলতার শিকার হয়ে মৃৎশিল্পীরা আজ আর্থিক সংকটে ভুগছেন। তাদের তৈরি পণ্যের চাহিদা কমে গেছে, অথচ মাটি ও জ্বালানির দাম বেড়েছে। ফলে বহু শিল্পী তাদের পৈতৃক পেশা ছেড়ে দিতে বাধ্য হচ্ছেন। যারা এখনও এই পেশায় টিকে আছেন, তারা নিদারুণ কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন। বুড়িশ্বর গ্রামের শংকর কুমার পালের মতো অনেকেই মনে করেন, সরকারের পৃষ্ঠপোষকতা ছাড়া এই শিল্পকে বাঁচানো সম্ভব নয়।

​প্রবীণ মৃৎশিল্পী শ্যামল পাল জানান, প্রায় ৫০ বছরের বেশি সময় ধরে তিনি এই পেশায় আছেন। তার মতে, পরিশ্রমের তুলনায় আয় অনেক কম হওয়ায় নতুন প্রজন্ম এই পেশায় আর আগ্রহ দেখাচ্ছে না। তারা মনে করেন, সহজ শর্তে ব্যাংক ঋণ ও সরকারি সহায়তা পেলে এই শিল্পের হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনা সম্ভব।

​উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহীনা নাছরিন জানান, ঐতিহ্যবাহী শিল্প সংরক্ষণে সরকার সচেষ্ট। তিনি মৃৎশিল্পীদের দুর্দশার কথা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাবেন এবং তাদের জন্য কোনো ব্যবস্থা নেওয়া যায় কি না, তা খতিয়ে দেখবেন।

​এদিকে, স্বাস্থ্যগত কারণে বিশেষজ্ঞরা মাটির তৈরি তৈজসপত্র ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করছেন। অনেকেই মনে করছেন, স্বাস্থ্যসচেতনতা বাড়লে মাটির পণ্যের চাহিদা আবার বাড়বে এবং মৃৎশিল্পীদের জীবনে সুদিন ফিরবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here