ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এক নারী রোগী এবং সাধারণ মানুষের তাৎক্ষণিক তৎপরতার ফলেই প্রকাশ্যে দিবালোকে মোবাইল ফোন ছিনতাইয়ের চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। কেবল ব্যর্থই নয়, ঘটনার সঙ্গে জড়িত দুই যুবককে হাতেনাতে আটক করা সম্ভব হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫) সকাল আনুমানিক ১১টার দিকে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নারায়ণপুর ৭নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা ১৯ বছর বয়সী আফরোজা (পিতা- মো. অজলুল হুদা) চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে আসেন। টিকিট সংগ্রহের পর তিনি ডাক্তার দেখানোর উদ্দেশে যাচ্ছিলেন। ঠিক সেই মুহূর্তে একই উপজেলার গোসাইপুর গ্রামের দুই যুবক তাঁর হাতে থাকা মোবাইল ফোনটি ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। আটক হওয়া দুই যুবক হলো—২৬ বছর বয়সী আব্দুল্লাহ (পিতা- মৃত মাজু মিয়া) এবং ২১ বছর বয়সী মো. আলমগীর (পিতা- সাজু মিয়া)।
ভুক্তভোগী আফরোজার অদম্য তৎপরতা এবং সাহসিকতাই ছিল এই ঘটনার মোড় ঘোরানোর কারণ। তিনি পরিস্থিতি বুঝে তাৎক্ষণিক প্রতিরোধ গড়ে তোলেন এবং জোরে চিৎকার শুরু করেন। আফরোজার চিৎকারে হাসপাতালের ভেতরে উপস্থিত অন্যান্য রোগী, রোগীর স্বজন এবং কর্তব্যরত কর্মীরা তৎপরতার সঙ্গে দ্রুত এগিয়ে আসেন। তাঁদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় দুই যুবককে ঘেরাও করে আটক করা সম্ভব হয়।
ঘটনার পরপরই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ নবীনগর থানায় যোগাযোগ করে। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে এসে আটক দুই যুবককে থানায় নিয়ে যায়।
নবীনগর থানা অফিসার্স ইনচার্জ এ বিষয়ে বলেন, দুই আসামিকে থানায় আনা হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা রুজু হচ্ছে। তিনি আরও নিশ্চিত করেছেন যে, ভবিষ্যতে হাসপাতাল এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করার বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
রোগীর এই সাহসী ও সক্রিয় ভূমিকা নবীনগরের মানুষের মধ্যে ব্যাপক প্রশংসিত হচ্ছে এবং এটি জনবহুল স্থানে নিরাপত্তা বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির দাবিকে আরও জোরালো করেছে।








