ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল-আশুগঞ্জ) সংসদীয় আসনের সীমানা পুনর্নির্ধারণের বিরুদ্ধে আশুগঞ্জ ও বিজয়নগর — দুই উপজেলাতেই তীব্র প্রতিক্রিয়া ও বিক্ষোভ দেখা দিয়েছে। নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে আশুগঞ্জে সর্বদলীয় সমাবেশের ডাক দেওয়া হয়েছে, অন্যদিকে বিজয়নগরেও একই সিদ্ধান্ত নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করা হয়েছে।
আশুগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি আলহাজ্ব মো. শাহজাহান সিরাজ, উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মো. শাহজাহান ভুইয়া এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির প্রধান সমন্বয়কারী আমিনুল ইসলাম ডালিমের যৌথ বিবৃতিতে আগামীকাল ৯ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার সকাল ১০টায় আশুগঞ্জ গোলচত্বরে সর্বদলীয় প্রতিবাদ সমাবেশের আহ্বান জানানো হয়েছে। দলমত নির্বিশেষে সকলকে এতে অংশ নেওয়ার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।
বিবৃতিতে তারা অভিযোগ করেন, “ঐতিহ্যগতভাবে অবহেলিত এই আসনটিকে আরও দুর্বল করার জন্য ইচ্ছাকৃতভাবে বিজয়নগর উপজেলার চান্দুরা ও বুধন্তি ইউনিয়ন দুটিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে যুক্ত করা হয়েছে। এতে আশুগঞ্জের স্থানীয় প্রার্থীদের নির্বাচনে জয়ী হওয়ার সম্ভাবনা আরও সংকুচিত হবে।”
অন্যদিকে, বিজয়নগর উপজেলা থেকেও একই সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা করা হচ্ছে।
জেলা ছাত্রদলের সাবেক সহ-সভাপতি নুরুল হক নিয়াজ বলেন, “বিজয়নগরকে নিয়ে ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবেই চান্দুরা ও বুধন্তি ইউনিয়নকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ থেকে কেটে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে যুক্ত করা হয়েছে।” তিনি এই দুই ইউনিয়নকে আগের আসনে ফেরানোর দাবি জানান।
বিজয়নগর উপজেলা হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক মওলানা আফজাল হোসেন বলেন, “এই সিদ্ধান্তের কারণে দুই ইউনিয়নের মানুষ প্রশাসনিক ও অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত হবে।”
উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক আহবায়ক ইঞ্জিনিয়ার এনামুল হক বলেন, “বিজয়নগরবাসী কেউই ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সাথে যুক্ত হতে চান না। আমাদের উপজেলাকে বিভক্ত করে কার স্বার্থে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, তা জবাব দিতে হবে নির্বাচন কমিশনকে।”
নির্বাচন কমিশনের গেজেট প্রকাশের পর থেকেই বিজয়নগরে একাধিক বিক্ষোভ হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা ও রাজনৈতিক কর্মীরা এই সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবিতে সোচ্চার হয়েছেন।
এদিকে, নির্বাচন কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, নির্বাচন কমিশন (ইসি) সর্বোচ্চ সতর্কতা, নিরপেক্ষতা ও যৌক্তিক বিবেচনায় সংসদীয় আসনের সীমানা পুনর্নির্ধারণ করেছে। তাঁর দাবি, সীমানার চূড়ান্ত তালিকা নিয়ে কোনো আদালতে প্রশ্ন তোলার সুযোগ নেই।
বিশ্লেষকদের মতে, এই ইস্যুতে দুই উপজেলার জনগণের মধ্যে বিরাজমান অসন্তোষ আগামী নির্বাচনী পরিবেশকে প্রভাবিত করতে পারে।








