বিজ্ঞানীরা দীর্ঘদিন ধরে মানবদেহে প্রাণীর অঙ্গ প্রতিস্থাপনের চেষ্টা করছেন এবং এই প্রচেষ্টা সম্প্রতি বেশ কিছু সাফল্য দেখিয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় চীনের বিজ্ঞানীরা প্রথমবারের মতো এক ‘ব্রেইন ডেড’ ব্যক্তির শরীরে শূকরের ফুসফুস প্রতিস্থাপন করেছেন। এই ঘটনাটিকে চিকিৎসা বিজ্ঞানের ইতিহাসে একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে, যদিও অঙ্গটি পুরোপুরি কাজ করেনি।
নিউ ইয়র্ক টাইমসের একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, চীনের গুয়াংজু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা নেচার মেডিসিন সাময়িকীতে এই প্রতিস্থাপনের বিস্তারিত তুলে ধরেছেন। তারা জানিয়েছেন, প্রতিস্থাপিত শূকরের ফুসফুসটি আংশিকভাবে কাজ করলেও ৯ দিন পর এটি সরিয়ে ফেলা হয় কারণ এটি কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল।
ফুসফুস প্রতিস্থাপন একটি অত্যন্ত জটিল প্রক্রিয়া, এমনকি মানুষ থেকে মানুষের ক্ষেত্রেও এর জটিলতা এবং মৃত্যুহার অনেক বেশি। এ কারণে শূকরের মতো প্রাণীর অঙ্গ মানুষের দেহে সফলভাবে প্রতিস্থাপন করা সম্ভব হলে তা ফুসফুসের জটিল রোগে আক্রান্ত কোটি কোটি মানুষের জন্য নতুন আশার আলো দেখাবে।
যুক্তরাষ্ট্রের চিকিৎসাবিজ্ঞানীরা এই গবেষণার প্রশংসা করেছেন। নিউ ইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রসম্যান স্কুল অব মেডিসিনের সহযোগী অধ্যাপক স্টেফানি চ্যাং এই গবেষণাকে “অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক ও বড় একটি পদক্ষেপ” বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি আরও বলেন, কিডনি রোগের ক্ষেত্রে ডায়ালাইসিস একটি বিকল্প হলেও ফুসফুসের কোনো বিকল্প নেই। তাই প্রাণীর অঙ্গ থেকে ফুসফুস প্রতিস্থাপন সম্ভব হলে তা হবে যুগান্তকারী।
এই গবেষণায়, বিজ্ঞানীরা ছয় ধাপে জিনগতভাবে পরিবর্তিত একটি শূকরের বাম পাশের ফুসফুস ৩৯ বছর বয়সী এক ব্রেইন ডেড ব্যক্তির শরীরে প্রতিস্থাপন করেন। হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুল এবং ম্যাসাচুসেটস জেনারেল রিসার্চ ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক রিচার্ড এন পিয়েরসন এই ঘটনাকে “চমকপ্রদ” বলে অভিহিত করেছেন এবং এর কার্যকারিতা সম্পর্কে আরও তথ্য জানতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।
বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে লক্ষ লক্ষ মানুষ ফুসফুসের রোগে ভুগছেন, যাদের অনেকেই কোভিড-১৯ মহামারির পর দীর্ঘস্থায়ী জটিলতায় আক্রান্ত। অনেক ক্ষেত্রে অঙ্গদাতা পাওয়া গেলেও অঙ্গগুলো নানা কারণে প্রতিস্থাপনের জন্য উপযুক্ত থাকে না। এই পরিস্থিতিতে, প্রাণীর অঙ্গ প্রতিস্থাপনের এই গবেষণা চিকিৎসা ক্ষেত্রে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে পারে।








