ব্রাহ্মণবাড়িয়া পিটিআই প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হলো ‘শিক্ষা উপকরণ প্রদর্শনী মেলা–২০২৫’, যা আয়োজন করে বিটিপিটি (জানুয়ারি–অক্টোবর ২০২৫ সেশন)। রঙিন সাজসজ্জা, শিক্ষণ উপকরণের বৈচিত্র্য ও প্রশিক্ষণার্থীদের সৃজনশীল অংশগ্রহণে পুরো পিটিআই প্রাঙ্গণ হয়ে ওঠে এক উৎসবমুখর শিক্ষাঙ্গন। মেলার মূল উদ্দেশ্য ছিল প্রশিক্ষণার্থী শিক্ষকদের হাতে–কলমে তৈরি শিক্ষা উপকরণের মাধ্যমে সৃজনশীলতা, দক্ষতা ও শিক্ষণ প্রক্রিয়ার মানোন্নয়ন ঘটানো।

মোট ৯টি স্টলে ১০৭ জন প্রশিক্ষণার্থী নিজেদের হাতে তৈরি নান্দনিক শিক্ষা উপকরণ প্রদর্শন করেন। চার্ট, মডেল, ফ্লিপ চার্ট, পাজল বোর্ড, ওয়ার্কশিটসহ বিভিন্ন উপকরণে প্রাথমিক স্তরের পাঠ্যবিষয়গুলোকে জীবন্তভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়। প্রতিটি স্টলেই ছিল সৃজনশীল চিন্তাভাবনার প্রকাশ, শিক্ষণ পদ্ধতির অভিনবত্ব এবং নান্দনিক উপস্থাপনা। উপস্থিত দর্শক ও অতিথিদের চোখে প্রশিক্ষণার্থীদের পরিশ্রম ও মেধার উজ্জ্বল প্রকাশ ফুটে ওঠে প্রতিটি উপকরণে। 
মেলায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া পিটিআই–এর সুপারিন্টেনডেন্ট, সহকারী সুপারিন্টেনডেন্ট এবং সকল ইন্সট্রাক্টরবৃন্দ উপস্থিত থেকে প্রতিটি স্টল পরিদর্শন করেন। তাঁরা প্রশিক্ষণার্থীদের তৈরি উপকরণের মান, উপস্থাপন কৌশল ও সৃজনশীলতা দেখে প্রশংসা করেন এবং এ ধরনের উদ্যোগ শিক্ষণ প্রক্রিয়াকে আরও আকর্ষণীয় ও ফলপ্রসূ করবে বলে মত প্রকাশ করেন।
পাশাপাশি প্রশিক্ষণ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও মেলায় অংশ নিয়ে প্রতিটি স্টল ঘুরে দেখেন এবং হাতে তৈরি শিক্ষা উপকরণগুলো গভীর আগ্রহের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করেন। এতে মেলাটি হয়ে ওঠে এক প্রাণবন্ত শিক্ষণ অভিজ্ঞতার কেন্দ্রবিন্দু।
মেলা শেষে সকাল সেশনে প্রশিক্ষণার্থী ও ইন্সট্রাক্টরবৃন্দ একসাথে দলীয় ফটোশুটে অংশ নেন। বিটিপিটি–২০২৫ সেশনের তিনটি সেকশন আলাদাভাবে নিজেদের দলের সঙ্গে স্মৃতিময় মুহূর্ত ধরে রাখেন। হাসি, আনন্দ ও সাফল্যের রঙে ভরে ওঠে পুরো প্রাঙ্গণ।
উদ্ভাবনী বক্তব্যে সুপারিন্টেনডেন্ট ও সহকারী সুপারিন্টেনডেন্ট মহোদয় সকল প্রশিক্ষণার্থী ও ইন্সট্রাক্টরবৃন্দকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, এ ধরনের শিক্ষা উপকরণ প্রদর্শনী প্রশিক্ষণার্থীদের হাতে–কলমে শিক্ষণ অভিজ্ঞতা ও সৃজনশীল প্রয়োগের মানসিকতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ভবিষ্যতেও এমন অনুপ্রেরণামূলক ও শিক্ষণীয় আয়োজন অব্যাহত থাকবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।








