ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মানবসেবার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করে চলেছে ‘ব্রাহ্মণবাড়িয়া বাতিঘর’ নামের একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন। প্রতিষ্ঠার পর থেকে তারা অজ্ঞাতনামা ও বেওয়ারিশ লাশের দাফন, পরিচয়হীন রোগীদের সেবা এবং অন্যান্য মানবিক কার্যক্রমে নিজেদের নিয়োজিত রেখেছে। এরই ধারাবাহিকতায়, গত রোববার (৭ সেপ্টেম্বর) রাতে সংগঠনটি ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানায় ২২২টি বেওয়ারিশ লাশের দাফনের পূর্ণাঙ্গ তালিকা হস্তান্তর করেছে।
রাত সাড়ে ৯টার দিকে, সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মো. আজহার উদ্দিনের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মোজাফফর হোসেনের কাছে এই তালিকা তুলে দেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সাবেক সভাপতি মাওলানা রাকিবুল ইসলাম, সাবেক সাধারণ সম্পাদক কাজী আরমান আদনান এবং সদস্য শাওন মিয়া ও রাসেল মিয়াসহ আরও অনেকে।
ওসি মোহাম্মদ মোজাফফর হোসেন ‘ব্রাহ্মণবাড়িয়া বাতিঘরের’ এই মহৎ উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, “ব্রাহ্মণবাড়িয়া বাতিঘর যে মহৎ কাজ করছে, তা আমাদের পক্ষেও করা সম্ভব নয়। তারা প্রকৃত অর্থেই মানবতার সেবায় নিয়োজিত। আমরা তাদের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানাই।” তিনি আরও জানান, শিগগিরই বেওয়ারিশ লাশের কবরস্থানে মাটি ফেলার ব্যবস্থা করা হবে।
প্রতিষ্ঠার পর থেকে গত পাঁচ বছরে নিজেদের অর্থায়নে ২২২টি বেওয়ারিশ লাশ দাফনের পাশাপাশি, ব্রাহ্মণবাড়িয়া বাতিঘর বিভিন্ন দুর্ঘটনায় আহত ও অজ্ঞাত পরিচয়ের পাঁচ শতাধিক অসহায় রোগীকে চিকিৎসা সহায়তা দিয়েছে। এছাড়াও, সংগঠনটি নিয়মিতভাবে রোগীদের জন্য রক্তদান, অক্সিজেন সেবা এবং অসহায় ও অভাবী মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে মানবতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করে, ব্রাহ্মণবাড়িয়া বাতিঘরের এই মানবিক কার্যক্রম কেবল প্রশংসার যোগ্য নয়, বরং এটি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সমাজ ও প্রশাসনের জন্য একটি অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত। তাদের এই নিরলস প্রচেষ্টা প্রমাণ করে, মানবসেবার মাধ্যমে একটি সমাজ কতটা ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে।








