জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ বলেছেন, আগামী জাতীয় নির্বাচনে গণমাধ্যম যদি নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন না করে, তাহলে জনগণ এবার মিডিয়াকেও লালকার্ড দেখাবে।
বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার নবীনগর পাইলট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ১১ দলীয় জোট আয়োজিত এক নির্বাচনি জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, “মিডিয়ার ভাইয়েরা, আমরা জানি আপনারা নিরুপায়। তৃণমূলের সাংবাদিকরা আমাদের জানান—তারা খবর পাঠালেও অনেক সময় তা কেটে দেওয়া হয়। অথচ আমরা দেখছি, প্রায় সব গণমাধ্যমে একটি দলের বন্দনা-প্রশংসা চলছে, বিশেষ করে বিএনপির প্রচারণা করা হচ্ছে। সংবাদ পরিবেশনের মাঝেই রাজনৈতিক প্রচার চালানো হচ্ছে।”
প্রশাসনকে সতর্ক করে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, “কতিপয় লোভী বেনজীর-হারুন আবার উদয় হয়েছে, বিপ্লবরাও ফিরে আসছে। পুলিশ ভাইয়েরা, আপনারা বেনজীর ও বিপ্লব থেকে শিক্ষা নিন। আমরা বিশ্বাস করতে চাই, আগামী নির্বাচনে কোনো এসপি, ওসি বা এসআইয়ের জন্য টাকা রাখতে হবে না।”
তিনি আরও বলেন, “এই নির্বাচন ১৪০০ শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত। নির্বাচনের জন্য আমাদের রক্ত দিতে হয়েছে। প্রশাসনের ভাইয়েরা যদি জনগণের বিরুদ্ধে অবস্থান নেন, আবার ৫ আগস্টের মতো গণআন্দোলন সৃষ্টি হবে।”
হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, “ভোট চোরদের হাতে যদি দেশ তুলে দেওয়া হয়, তাহলে একদিন এই ভোট চোররাই আপনাদের সন্তানদের রাস্তায় গুলি করার নির্দেশ দেবে। ওসি-ডিসি, এসপি-এসআই—সিদ্ধান্ত আপনাদের। আপনারা ক্ষমতা জনগণের হাতে তুলে দেবেন, নাকি ভোট চোরদের হাতে দেবেন।”
তিনি বলেন, “আমরা যে বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই, তা হবে দুর্নীতিমুক্ত। আমরা রাজনীতি শুরু করেছি শুধু খেলা পরিবর্তনের জন্য নয়, বরং খেলার নিয়মই পাল্টে দিতে।”
জনসভায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের নবীনগর শাখার আমির মোখলেছুর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা মোবারক হোসেন, জামায়াতে ইসলামীর সুপ্রিম কোর্ট শাখার নির্বাহী সদস্য আব্দুল বাতেন, এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের সংগঠক আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ জিহান, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নির্বাহী সভাপতি মাইনুল ইসলাম খন্দকারসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।









