ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার বিদ্যাকুট ইউনিয়নের সেলিমনগরে তিতাস নদীতে জমির ‘কস্তুরা’ (সম্ভবত আগাছা বা কচুরিপানা) পরিষ্কার করতে গিয়ে বাবা ও ছেলের নিখোঁজ হওয়ার মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। নদীর তীব্র স্রোতে ভেসে যাওয়া ছেলেকে এলাকাবাসীর তৎপরতায় তাৎক্ষণিকভাবে উদ্ধার করা সম্ভব হলেও বাবা সিদ্দিক খাঁ এখনও নিখোঁজ রয়েছেন। ফায়ার সার্ভিস ও ভৈরব থেকে আসা ডুবুরি দল তার সন্ধানে নিবিড় তল্লাশি অভিযান চালাচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আজ সকালে সিদ্দিক খাঁ এবং তার ছেলে আকরাম খাঁ তাদের জমিতে কাজ করার জন্য তিতাস নদীতে যান। এই সময় নদীর প্রবল স্রোতে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দু’জনেই ভেসে যান। তাদের চিৎকার শুনে দ্রুত স্থানীয়রা উদ্ধার কাজ শুরু করেন এবং অল্প সময়ের মধ্যেই ছেলে আকরাম খাঁকে উদ্ধার করতে সক্ষম হন। কিন্তু সিদ্দিক খাঁ এখনও নিখোঁজ।
বিদ্যাকুট ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ডের মেম্বার ইব্রাহিম তাৎক্ষণিকভাবে নবীনগর ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেন। ফায়ার সার্ভিসের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে সকাল ১০টা থেকে প্রায় এক ঘণ্টা তল্লাশি চালায়। নিখোঁজ সিদ্দিকের কোনো সন্ধান না পাওয়ায় তারা ভৈরব ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দলকে খবর দেন। খবর পেয়ে ভৈরব ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে এসে উদ্ধার অভিযানে যোগ দেয় এবং নিরলসভাবে নিখোঁজ সিদ্দিক খাঁর তল্লাশি চালিয়ে যাচ্ছে।
এ বিষয়ে নবীনগর নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক রাজীব চৌধুরী জানান, “ফায়ার সার্ভিসের দল পাঠানো হয়েছে এবং ভৈরব থেকেও ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল আসছে।”
এদিকে, এলাকাবাসীর মধ্যে নিখোঁজ সিদ্দিক খাঁকে দ্রুত উদ্ধারের বিষয়ে গভীর উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তারা আরও অভিযোগ করেন যে বিদ্যাকুট (আক্কালিয়া পুকুর) – সেলিম নগর রোড ইউপি-মারখালা ব্রিজ সড়কটি দ্রুত সংস্কার করা জরুরি। তাদের অভিযোগ, ১০০ ফুটের একটি ব্রিজের অভাবে কৃষকরা প্রতি বছর জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হতে গিয়ে দুর্ঘটনার শিকার হন এবং বারবার উদ্যোগ নেওয়া হলেও ব্রিজটি আজও নির্মিত হয়নি। ফায়ার সার্ভিস ও ডুবুরি দলের সদস্যরা নিখোঁজ সিদ্দিক খাঁকে উদ্ধারের জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।








