একটি টেলিভিশন টকশোতে দেওয়া বিএনপি নেত্রী ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানার বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়েছেন ন্যাশনালিস্ট কংগ্রেস পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম মুখ্য সংগঠক মো. আতাউল্লাহ। তিনি রুমিন ফারহানার অভিযোগকে ‘কাল্পনিক, অসত্য ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে অভিহিত করেছেন। আজ ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের দক্ষিণ পৈরতলা বাসস্ট্যান্ডে এনসিপির অস্থায়ী কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।
রুমিন ফারহানা সম্প্রতি একটি টকশোতে অভিযোগ করেছিলেন যে, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসনের বিএনপি প্রার্থী এনসিপির নেতৃবৃন্দকে টাকা দিয়ে নিয়োগ করেছেন। এই অভিযোগের জবাবে মো. আতাউল্লাহ বলেন, ‘ব্রাহ্মণবাড়িয়ার-৩ আসনের প্রার্থী এবং জেলা বিএনপির সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল একজন পরিচ্ছন্ন রাজনীতিবিদ। তার বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ করা হচ্ছে। আমি স্পষ্টভাবে জানাতে চাই, এই অভিযোগ সম্পূর্ণ কাল্পনিক, অসত্য ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি ও আমাকে রাজনৈতিকভাবে দুর্বল করার কৌশল হিসেবেই তিনি এই বক্তব্য দিয়েছেন।’
এনসিপির যুগ্ম মুখ্য সংগঠক আরও জানান, নির্বাচন কমিশন যখন বিজয়নগরের তিনটি ইউনিয়নকে অন্য আসনের সঙ্গে যুক্ত করে খসড়া প্রকাশ করে, তখন থেকেই এলাকাবাসী বিক্ষোভ, সমাবেশ ও রাস্তা অবরোধ কর্মসূচি পালন করে আসছে। তাদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতেই নির্বাচন কমিশন ২৪ আগস্ট শুনানির তারিখ নির্ধারণ করে। তিনি বলেন, শুনানিতে অংশ নেওয়ার আগেই তাকে নানা ধরনের হুমকির সম্মুখীন হতে হয়।
২৪ আগস্ট কমিশন ভবনে পৌঁছালে রুমিন ফারহানার অনুসারীরা তাদের প্রবেশে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করে। ভেতরে প্রবেশ করার পর দুপুর ১২টায় প্রধান নির্বাচন কমিশনারের বক্তব্যের মাধ্যমে শুনানি শুরু হয়। একপর্যায়ে আতাউল্লাহ বক্তব্য দেওয়ার জন্য ডায়াসে দাঁড়ালে রুমিন ফারহানা হঠাৎ উঠে এসে তাকে আক্রমণ করার জন্য অনুসারীদের ইঙ্গিত দেন। এরপর তাকে আক্রমণ করা হয় এবং কিল-ঘুষি ও লাথি মারা হয়। এই হামলায় তার সঙ্গে থাকা বিজয়নগর উপজেলা প্রধান সমন্বয়কারী আমিনুল হক চৌধুরী এবং জাতীয় যুবশক্তির কেন্দ্রীয় সংগঠক শেখ মুস্তফা সুমন গুরুতর আহত হন।
আক্রমণের পরেও তিনি পুনরায় বক্তব্য দেওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু দুঃখজনকভাবে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই ঘটনার একটি বিকৃত ভিডিও প্রচার করা হচ্ছে, যেখানে তাকেই আক্রমণকারী হিসেবে দেখানো হয়েছে। এই অভিযোগকে তিনি ‘সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন’ বলে উল্লেখ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা এনসিপির প্রধান সমন্বয়কারী আজিজুর রহমান লিটন, যুগ্ম সমন্বয়কারী আবদুল্লাহ আল জিহান মাহমুদ, আশুগঞ্জ উপজেলা যুগ্ম সমন্বয়কারী জয়ন্তী বিশ্বাস, জেলা গণতান্ত্রিক ছাত্রসংসদের সমন্বয়কারী মোহাইমিনুল আজবিনসহ অন্যান্য নেতাকর্মীরা।








