ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলায় জাল দলিল তৈরি করে অন্যের জমি নিজের নামে খারিজের চেষ্টার অভিযোগে আবু বক্কর (৩৮) নামের এক দলিল লেখকের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। এই ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত দলিল লেখক পলাতক রয়েছেন এবং তাকে গ্রেপ্তারে পুলিশি তৎপরতা চলছে।
গত রবিবার (২১ সেপ্টেম্বর) সরাইল সদর ভূমি অফিসের উপ-সহকারী কর্মকর্তা মো. অলিউর রহমান বাদী হয়ে সরাইল থানায় এই মামলাটি দায়ের করেন। অভিযুক্ত দলিল লেখক আবু বক্কর সরাইল উপজেলার পানিশ্বর ইউনিয়নের বড়ইবাড়ি এলাকার মুসলিম মিয়ার ছেলে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, সরাইল সদর উপজেলার নতুন হাবলী গ্রামের রাকিবুল ইসলাম ঠাকুর গত ১৮ আগস্ট ২৪০৬ নম্বর দলিল ব্যবহার করে নামজারি ও জমাখারিজের জন্য আবেদন করেন। ১৫ সেপ্টেম্বর এই আবেদন মঞ্জুর হয়। কিন্তু ১৬ সেপ্টেম্বর দাখিল করা দলিলের ফটোকপি সন্দেহজনক মনে হলে কর্তৃপক্ষ একটি বিবিধ মোকদ্দমা রুজু করে।
পরবর্তীতে ১৮ সেপ্টেম্বর শুনানিতে দেখা যায়, রাকিবুল ইসলাম ঠাকুর কর্তৃক দাখিলকৃত দলিলটির সাথে জেলা রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে সংরক্ষিত মূল দলিলের তথ্যের মিল নেই। জেলা কার্যালয়ের মূল দলিল অনুযায়ী, ২০০২ সালের ১৮ জুনের ২৪০৬ নম্বর দলিলে দাতা ছিলেন সামছুল আলম ঠাকুর এবং গ্রহীতা ছিলেন রফিকুল ইসলাম ঠাকুর। কিন্তু রাকিবুল ইসলাম ঠাকুরের অনলাইন আবেদনে দাখিল করা একই তারিখ ও নম্বরের দলিলের তথ্য ছিল ভিন্ন, যেখানে একাধিক দাতা ও গ্রহীতা হিসেবে রাকিবুল ইসলাম ঠাকুরের নাম উল্লেখ করা হয়।
শুনানিতে রাকিবুল ইসলাম ঠাকুর স্বীকার করেন যে, খারিজের জন্য ব্যবহৃত দলিলটি জাল এবং এটি দলিল লেখক আবু বক্কর ও আরও ৩-৪ জনের সহযোগিতায় তৈরি করা হয়েছে।
এরপর, মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে সরাইল উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শারমিন বেগম প্রতারক রাকিবুল ইসলাম ঠাকুরকে ১৮৬০ সালের ১৮৮ ধারা লঙ্ঘনের দায়ে ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন। একইসাথে, অভিযুক্ত দলিল লেখক আবু বক্করের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।
সরাইল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মোরশেদুল আলম চৌধুরী মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, দলিল লেখক আবু বক্করের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে এবং তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।








