পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চলমান ‘গণছুটি’ কর্মসূচির প্রেক্ষিতে সরকার তাদের আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে নিজ নিজ কর্মস্থলে যোগদানের নির্দেশ দিয়েছে। এই নির্দেশ অমান্য করা হলে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে বিদ্যুৎ বিভাগ জানিয়েছে।
পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কর্মীদের চার দফা দাবিতে এই আন্দোলন শুরু হয়েছে। তাদের মূল দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে: পল্লী বিদ্যুতের সংস্কার, চাকরি বৈষম্য দূরীকরণ এবং হয়রানিমূলক পদক্ষেপ বন্ধ করা। যদিও আন্দোলনকারীরা বলছেন, বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে তারা প্রতিটি উপকেন্দ্রেই জরুরি সেবার জন্য দু’জন করে বিদ্যুৎ কর্মী রেখেছেন।
পল্লী বিদ্যুৎ অ্যাসোসিয়েশনের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, গত বছরের জানুয়ারি থেকে তারা আরইবি-এর শোষণ ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে আন্দোলন করে আসছেন। বারবার আশ্বাস দেওয়া হলেও তাদের দাবি পূরণে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। গত বছর বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করা হলেও সেই কমিটির প্রতিবেদন এখনও অপ্রকাশিত ও অব্যবহৃত। ফলে দাবি আদায়ে তাদের আবার আন্দোলনে নামতে হয়েছে।
সরকারের পক্ষ থেকে বিদ্যুৎ বিভাগ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, সরকার আন্দোলনকারীদের দাবির বিষয়ে সংবেদনশীল এবং তা পূরণের চেষ্টা চলছে। তবে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ একটি অত্যাবশ্যক পরিষেবা এবং এতে কোনো ধরনের বাধা সৃষ্টি করা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। তাই গণছুটির নামে অনুপস্থিত থাকা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দ্রুত কর্মস্থলে ফিরে আসার জন্য বলা হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত বছরও একই ধরনের আন্দোলনের কারণে দেশে বিদ্যুৎ বিপর্যয় (ব্ল্যাকআউট) দেখা দেয়। তখন সরকার কঠোর পদক্ষেপ নিয়ে বেশ কয়েকজন নেতা ও কর্মীকে গ্রেপ্তার করেছিল। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, সেই সময়ে আন্দোলনে অংশ নেওয়ায় তাদের অনেক কর্মীকে বদলি ও চাকরিচ্যুতসহ নানাভাবে হয়রানি করা হয়েছে।








