ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলার ভারত সীমান্তবর্তী হাওড়া নদীতে ড্রেজার দিয়ে অবৈধভাবে বালু ও মাটি উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে উপজেলা কৃষকদল ও শ্রমিক দলের কয়েকজন নেতার বিরুদ্ধে। এর প্রতিবাদে শনিবার (২০ সেপ্টেম্বর) সকালে হাওড়া নদীর তীরবর্তী খলাপাড়া ব্রিজ এলাকায় শত শত নারী-পুরুষ মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন।
স্থানীয় সূত্র থেকে জানা যায়, সম্প্রতি উপজেলা কৃষক দলের আহ্বায়ক আমজাদ খান, সদস্য সচিব বাহাদুর হোসেন তিতাস এবং উপজেলা শ্রমিক দলের সদস্য সচিব ওমর ফারুক হাওড়া নদীর বালু ও মাটি কাটার ইজারা নেওয়ার দাবি করেন। গত বুধবার (১৭ সেপ্টেম্বর) তারা খলাপাড়া এলাকায় ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলন শুরু করলে স্থানীয় জমির মালিক ও গ্রামবাসীরা এতে বাধা দেন।
খবর পেয়ে আখাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অতীশ দর্শী চাকমা (ইউএনও) বৃহস্পতিবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তিনি এলাকাবাসীকে জানান যে এ বিষয়ে কোনো সরকারি অনুমোদনের বিষয়টি তার জানা নেই এবং বালু উত্তোলন বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন।
তবে এলাকাবাসীর অভিযোগ, ইউএনওর নির্দেশ অমান্য করে বাহাদুর হোসেন তিতাস ও তার সহযোগীরা জোরপূর্বক বালু ও মাটি উত্তোলনের হুমকি দিয়ে যাচ্ছেন। এতে নদীর তীরবর্তী মানুষের বসতবাড়ি ও কৃষিজমি মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়বে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। একইসাথে, এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে গ্রামবাসীর সঙ্গে উত্তোলনকারীদের সংঘর্ষের শঙ্কাও দেখা দিয়েছে।
মোগড়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. নান্নু মিয়া বলেন, প্রতিবছর ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের উজানের ঢলে হাওড়া নদীর বাঁধ ভেঙে নদীপাড়ের মানুষের ব্যাপক ক্ষতি হয়। এখন যদি ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন করা হয়, তাহলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা কৃষকদলের সদস্য সচিব বাহাদুর হোসেন তিতাস জানান, হাওড়া নদীর বালু মহালের জন্য সরকারিভাবে দরপত্র আহ্বান করা হলেও কোনো লোক অংশ নেয়নি। তাই তিনি জেলা প্রশাসকের কাছে খাস কালেকশনের মাধ্যমে বালু উত্তোলনের জন্য আবেদন করেন এবং সরকারি সকল নিয়ম-কানুন মেনেই তাকে অনুমতি দেওয়া হয়েছে। তিনি নিয়ম মেনেই বালু ও মাটি উত্তোলন করছেন বলে দাবি করেন।








